অপরাধ আইন মতামত ও বিশ্লেষণ সাধারণ আইন

থানায় পুলিশ মামলা না নিলে কি করবেন? অর্থাৎ থানায় মামলা নিতে না চাইলে করণীয়

বিমল সাভার এলাকায় বসবাসরত একজন শান্তি প্রিয় ভদ্রলোক। একই এলাকায় বসবাসরত মাস্তান টাইগার রনি। টাইগার রনি প্রতিনিয়ত বিমলকে উত্ত্যক্ত করে থাকে। বিমল অসহায় বিধায় টাইগার রনির বিরুদ্ধে তেমন একটা প্রতিবাদ করতে পারে না। একদিন টাইগার রনি বিনা কারণে বিমলের গায়ে হাত তুলে এবং তাকে খুব মারধর করে। বিমল এবার টাইগার রনির এমন আচরণ আর সহ্য করল না। সে সিদ্ধান্ত নিল এবার টাইগার রনির বিরুদ্ধে একটি মামলা করবে।

বিমল গেল নিকটস্থ থানায় টাইগার রনির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ বিভিন্ন অজুহাতে টাইগার রনির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রকৃতপক্ষে টাইগার রনি স্থানীয়ভাবে খুব প্রভাবশালী এবং সে পুলিশকে টাকা দিয়ে হাত করেছে বিধায় পুলিশ টাইগার রনির বিরুদ্ধে কোন মামলা নিতে চাচ্ছে না। বিমল খুব চিন্তায় পড়ে গেল কিভাবে টাইগার রনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। অন্যথায় সে আরো বেশি সুযোগ পেয়ে যাবে।

এই অবস্থায় টাইগার রনির বিরুদ্ধে কিভাবে মামলা করা যায় তা জানতে বিমল গেল একজন আইনজীবির কাছে।

আমলযোগ্য অপরাধ সংঘঠনের পর বিচারপ্রার্থীর প্রথম কাজ হলো থানায় মামলা দায়ের করা। পুলিশ বিনামূল্যে সেই মামলা নিতে বাধ্য নিতে বাধ্য। কিন্তু তবুও নানা অজুহাতে পুলিশ মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

সাধারণতঃ মামলা করতে অনেক দেরী হয়ে গেলে বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে স্থানীয় পুলিশ আর মামলা নিতে চায় না। থানায় যদি পুলিশ আমাদের মামলা না নিতে চায় সেক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি?

কোন কারণে যদি কখনো থানায় মামলা নিতে না চায় তাহলে সংশ্লিষ্ঠ আদালতে গিয়ে নালিশি অভিযোগের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়।

তাই দেখা যাচ্ছে যে সাধারণতঃ মামলা দু’টি স্থানে দায়ের করা যায়। প্রথমটি হলো থানায় এবং দ্বিতীয়টি হলো কোর্টে।

এবার আমরা তাহলে দেখি বিমল এখন কিভাবে এই বিষয়টি নিয়ে কোর্টে গিয়ে মামলা দায়ের করবে।

এজন্য বিমলকে এখতিয়ারধীন আদালতে গিয়ে একজন ভাল আইনজীবির পরামর্শ নিয়ে টাইগার রনির বিরুদ্ধে নালিশী অভিযোগ দায়ের করতে হবে। নালিশী অভিযোগ মৌখিক বা লিখিত উভয়ভাবেই দায়ের করা যায়। তবে সাধারণতঃ সবাই লিখিতভাবেই অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ দায়েরের দিন ম্যাজিস্ট্রেট ওই অভিযোগের কোন ভিত্তি আছে কি না তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে অভিযোগকারীকে এবং প্রয়োজন মনে করলে ঐ ঘটনার অন্যান্য সাক্ষীদেরকে শপথপূর্বক পরীক্ষা করতে পারেন। অর্থাৎ এখানে ম্যাজিস্ট্রেট প্রাথমিকভাবে যাচাই করে দেখার চেষ্টা করবেন যে অভিযোগটি আসলেই সত্যি না মিথ্যা।

পরীক্ষা করার সময় ম্যাজিস্ট্রেট যদি নালিশকারীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হন অথবা নালিশকারী মামলার ভিত্তি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন তবে ম্যাজিস্ট্রেট আমলে না নিয়ে মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন।

আর যদি ম্যাজিষ্ট্রেট নালিশকারীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হন তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি থানায় GR মামলা হিসাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারেন। অর্থাৎ এখানে ম্যাজিস্ট্রেট যখন দেখবেন নালিশকারী বা অভিযোগকারীর বক্তব্য সঠিক এবং অভিযোগের ভিত্তি আছে সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যেটা করতে পারেন তা হলো স্থানীয় পুলিশকে এই মামলাটি পুনরায় গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।

ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে আদেশপ্রাপ্ত পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই অভিযোগটি থানায় এজাহার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে মামলা গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীরর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হলে মামলাটি আর থানায় না পাঠিয়ে CR কেস হিসাবে সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি কোর্টে নথিভুক্ত করবেন। অর্থাৎ এখানে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটিকে গ্রহণের জন্য পুনরায় থানায় না পাঠিয়ে মামলাটি কোর্টে স্বাভাবিক মামলা হিসাবে কোর্টের মামলা হিসাবেই দায়ের করতে পারে।

এক্ষত্রে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি আমলে নিলে ম্যাজিস্ট্রেট টাইগার রনির বিরুদ্ধে সমন জারী করে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিতে পারেন। আর যদি আপরাধটি খুবই গুরুতর হয় তবে ম্যাজিস্ট্রেট সমন না পাঠিয়ে টাইগার রনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়োনা পাঠাতে পারে।

গ্রেফতারী পরোয়ানা পাঠানোর পর স্থানীয় পুলিশ টাইগার রনিকে গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকবে।

তাই পুলিশ থানায় মামলা নিতে না চাইলে বিচলিত হয়ে নিজেকে অসহায় ভাবার কোন কারণ নেই। আইন অনুযায়ী যে কেউ এরকম পরিস্থিতিতে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে নালিশী মামলা করার মাধ্যমে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন।

Leave a Reply