অপরাধ আইন সাধারণ আইন

এজাহার বা FIR কি এবং করার কৌশল

মামলা যে কেউ করতে পারে। আমাদের যে অধিকার সেটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা মামলা করতে পারি। মামলা করার জন্য আমাদের সাধারণঃ থানায় যেতে হয়। কি নিয়ে যাব? আমরা সাধারণতঃ মামলা করতে গেলে একটা লিখিত কিছু নিয়ে যাই। লিখিত এই কাগজটাকে বলে এজাহার বা FIR বা First Information Report বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী। অর্থাৎ প্রথম প্রেরিত বা সংগৃহীত তথ্যকে এজাহার বলে। কোন অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর থানায় সবার আগে লিখিত বা মৌখিক খবর দেওয়া হয় এবং তাকেই এজাহার বলে।

প্রত্যেক থানায় একজন ও.সি থাকেন এবং তার অধীনে একাধিক সাব ইন্সপেক্টর, এসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর, কনষ্টেবল, কেরানী (মুনসী) থাকে। ও.সি হলেন থানার প্রধান কর্মকর্তা বা কর্তা ব্যক্তি। থানার সকল সাব-ইন্সপেক্টর ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ পালাক্রমে ডিউটি করেন। থানা চব্বিশ ঘন্টাই খোলা থাকে। যে কোন লোক কোন অপরাধের লিখিত বা মৌখিক খবর নিয়ে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার ও.সি’র অনুমতি নিয়ে লিখিত মামলা রুজু করেন।

এখন আমরা দেখি এজাহারে কি কি লিখতে হবে বা এখানে কি কি বিষয় থাকে?

এজাহারটা হচ্ছে একটা মামলার প্রাণ বা ভিত্তি। তাই এজাহারে কি কি বিষয় থাকবে তা জানা থাকলে প্রাত্যহিক জীবনে খুব কাজে লাগবে।

প্রথমতঃ আমাদেরকে যে থানায় এজাহারটি করা হচ্ছে সেই থানার ঠিকানা দিতে হবে এবং থানার অফিসারস্ ইনচার্জ বরাবর লিখতে হবে। এরপর যিনি এজাহার করছেন তার পরিচয় ভাল ও সঠিকভাবে দিতে হবে। এরপর ঘটনাগুলি ধীরে ধীরে দিতে হবে। ঘটনার বিবরণে প্রথমেই বলতে হবে ঘটনা ঘটার স্থান। এটা খুবই জরুরী। কারণ এজাহারে সাথে স্কেচ ম্যাপ যেটি তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে তৈরী করেছেন যদি না মিলে তাহলে মামলা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত ঘটনা কখন ঘটেছে। এই স্থানটি ভুলের কারণে অনেকেই মামলায় হেরে যায়।

তৃতীয়ত দিতে হবে ঘটনা কবে ঘটেছে। এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সূক্ষ্মভাবে লিখতে হবে। এরপর দিতে হবে ঘটনার বর্ণনা।

কোন মামলা করতে হলে বিলম্ব না করাই মঙ্গল। একারণে অনেকেই ধরা খায়। একটি ঘটনা ঘটছে আজকে, আমরা মামলা করলাম সাতদিন পর। দেরীতে মামলা করার কারণে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

এজাহারের শেষে এজাহানকারীর নাম ও ঠিকানা দিতে হবে। স্বাক্ষর দিতে হবে। এজাহারটি থানায় নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের একটি নিদিষ্ট ফর্ম আছে যেটাকে বলে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী। পুলিশ আমাদের এজাহারের ভিত্তিতে ফর্মটি পূরণ করবেন। তখন সেটা মামলা হিসাবে শুরু হয়ে যাবে।

এজাহার হওয়ার পর পুলিশের কাজ হলো তদন্ত করা। এজাহার করার জন্য পুলিশকে কিন্তু কোন ফি দিতে হবে না। এজাহারে যে ঘটনা ঘটেছে পুলিশ সেটা তদন্ত করে রিপোর্ট তৈরী করে আদালতে পাঠায়। পুলিশের এই রিপোর্টকে বলা হয় চার্জ সিট বা অভিযোগ পত্র।

পুলিশ চার্জসিট বা ফাইনাল রিপোর্ট দিলে এজাহারকারী অসন্তুষ্ট হলে আদালতে নারাজি পিটিশন দিতে পারে। আমরা তখন বলব এই প্রতিবেদনে আমরা সন্তুষ্ট না। নারাজি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের শুনানী হবে। শুনানীর পর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে পুনরায় তদন্ত হবে কিনা। এটা সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারের বিষয়।

Leave a Reply